| অভিযোগ রিপোর্ট : পানিতে ঝাঁপ দিয়েই পালাতে চেয়েছিল কলাবাগানে সহপাঠীসহ ৩ জনকে নির্মম ছুরিকাঘাতে আহত করা আশরাফুল ইসলাম আশরাফ। তাকে ধরতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয় তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে আশরাফ নরসিংদীতে পালিয়ে গেছে। সেখানেও অভিযান চালানো হয়। পরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদের আগেই আশরাফুল ইসলাম ওরফে আশরাফ পুলিশকে বলেছে ছুরিকাঘাতে ৩ জনকে আহত করার পেছনের কারণ প্রেম। ২৬ মার্চ কলাবাগানে বন্ধু সহপাঠী ফৌজিয়া ফারিয়া বর্ষার বাসায় গিয়ে তার বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে আশরাফ। টাকা না পেয়ে বর্ষা ও তার বাবা-মাকে কুপিয়ে গুরম্নতর জখম করে সে। গোয়েন্দা কার্যালয়ে আশরাফ বলেছে, আমি ইশিকাকে ভালবাসি। কিন' সে বলেছে, আমাকে বিয়ে করতে হলে ব্যাংকে প্রচুর টাকা থাকতে হবে। প্রেমিকাকে বিয়ে করতেই বর্ষার বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা ধার চেয়েছিলাম। আমার প্রেমিকার বাবা পিডিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের সামাজিক মর্যাদা অনেক উপরে। তাকে পেতে হলে ধনী হতে হবে। তাই গ্রামের জমি বিক্রি করে লন্ডন গিয়েছিলাম। লন্ডনে থাকা অবস'ায় একজন আমাকে ফোন করে জানায়- তুই কাকে ভালবাসিস। তোর প্রেমিকা তো আরেকজনের সঙ্গে প্রেম করছে। এ কথা শোনার পর আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। আমি দেশে চলে আসি। প্রেমিকাকে বলি- তুমি আমার সঙ্গে প্রতারণা করতে পারো না। ঝগড়া হয়। কিন' সে বলে, তোমার ব্যাংকে ২০/৩০ লাখ টাকা থাকলে তোমাকে বিয়ে করবো। এ কথা শোনার পর আমার মনে হয় বর্ষাই আমাকে সাহায্য করতে পারে। এজন্য আমি বর্ষাদের বাসায় যাই। কিন' বর্ষার বাবা টাকা দিতে চাননি। আমি বলেছিলাম, টাকা না দিতে পারলে আপনার যে কোনো একটা পস্নট আমাকে দেন। সেটাও না পারলে আপনার গাড়ি দুটো দিয়ে দেন। কিন' আমি ইশিকাকে ছাড়া বাঁচবোনা। ওদিকে পুলিশ বলছে, আমরা ইশিকার সঙ্গে কথা বলেছি। ইশিকা বলেছে আশরাফের সঙ্গে আমার কোনো বিশেষ সম্পর্ক নেই। আমি তাকে টাকা-পয়সার মালিক হতেও বলিনি। আমরা বন্ধু ছিলাম এটুকুই। আশরাফ জানায়, বর্ষার সঙ্গে আমার ৩ বছরের বন্ধুত্ব। কিন' এতোদিন আমি জানতাম বর্ষা মেয়ে নয় ছেলে। ভার্সিটিতেও সবাই জানে বর্ষা ছেলে। বর্ষা নিজেও সবাইকে ছেলে হিসেবেই পরিচয় দেয়। আমার প্রেমিকা ইশিকার সঙ্গে বর্ষার খুব ভাব ছিল। এই কারণে আমি বর্ষাকে সন্দেহ করতাম। বর্ষা জানিয়েছে, ভার্সিটিতে সে নিজেকে ছেলে বলেই পরিচয় দিতো। কারণ হিসেবে সে বলছে, আমাদের সমাজে মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়ায় অনেক বাধা পেতে হয়। আমি একটা সফ্টওয়্যার ফার্ম দিয়েছিলাম। কাজের সুবিধার জন্য নিজেকে ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতাম। তবে আমি আসলে মেয়েই।
|