| বিলাস দাস (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ১৯ জন দুঃস' মুক্তিযোদ্ধার নামে বন্দোবসে-া দেওয়া সরকারী খাসজমি এখনো তলিয়ে থাকে ১০ ফুট পানির নিচে। বন্দোবস- দেওয়া এই চরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌপথে ট্রালার। চাষাবাদ যোগ্য সরকারি খাস জমি বন্দোবস- দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে নদী বন্দোবস- দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।চার দলীয় জোট সরকারের আমলে এর প্রতিকার চেয়ে ভূক্তভূগীরা বিভিন্নমন্ত্রণালয়ে ও দপ্তর-অধিদপ্তরে আবেদন-নিবেদন ও ধরনা দিয়েও কোন ফল পায়নি। স'ানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সংশিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০০১ সালের দিকে সরকারের উর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে দশমিনা উপজেলার ১৯ জন দুঃস' ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা তাদের পরিবারে নামে দেড় একর করে খাস জমি বন্দোবস- দেওয়ার সিদ্ধানত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী দশমিনা উপজেলার চর শাহজালালের পার্শ্ববর্তী তেতুলিয়া নদীতে তৎকালীন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো: অব্দুস সামাদ এর নামানুসারে “ চর সামাদ ”নামে একটি পর্চ্চা ম্যাপ জেলা ভূমি বন্দোবস- কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর এসব দুঃস' মুক্তিযোদ্ধা ও ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমির নামে ১০ ফুট পানিতে তলিয়ে থাকা নদী বন্দোবস-াদওয়া হয়। শুধু কাগজে কলমে জমি পেলেও দুঃস' এসব মুক্তিযোদ্ধারা আজও বুঝে পায়নি তাদের জমির দখল।ভুক্তভোগী এসব মুক্তিযোদ্ধারা এ ব্যাপারে সরকারের উপর মহলে আবেদন - নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পায়নি দীর্ঘ ৯ বছরেও । ওই চরের কোন অসি-ত এখনো পাওয়া যায়নি।২০০১ সালের শেষের দিকে দশমিনা উপজেলার আরজবেগী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মজিবর রহমানকে ৮৬ নং দাগে, আলাউদ্দিনকে ১৩৪ নং দাগে, লাল মিয়াকে ১৩৭ নং দাগে, চাঁদপুরা গ্রামের ইউনুস দেওয়ানকে ৮৯ নং দাগে, মোঃ মোসলেম রাড়ীকে ১২১নং দাগে, আব্দুল গনিকে ১১১ আলী আকাবরকে ১৩৬ নং দাগে, মোঃ তাজেমুলকে ১২২ নং দাগে , ছালাম মজুমদাকে ৮৮ নং দাগে, উওর আদমপুর গ্রামের আবুল হাসেম রাড়ীকে ১১০ নং দাগে, গছানী গ্রামের কাজী নুর হোসাইনকে ১১৪ নং দাগে, চর শাহজালালের আব্দুল মন্নানকে ১১৮ নং দাগে, রনগোপালদী গ্রামের মোঃ আব্দুল মন্নানকে ৮৭ নং দাগে, দশমিনার মোঃ নুরুল ইসলামকে ১৩৫ নং দাগে, বহরমপুর গ্রামের মোঃ ইউনুসকে ১২০ নং দাগে, খারিজজামা - বেতাগী গ্রামের মোঃ শাহবুদ্দিনকে ১০৯ নং দাগে, খলিসাখালী গ্রামের আব্দুল খালেক হাওলাদারকে ১১৫নং দাগে, দক্ষিন আউলিয়াপুর গ্রামের খালেক খানকে ১১২ নং দাগে, লক্ষীপুর গ্রামের কমলা রানী দাসকে ১১৬ নং দাগে দেড় একর করে খাস জমি বন্দোবসতদেয়া হয়।মুক্তিযোদ্ধা মজিবর নানা রোগভোগে আাক্রান্ত্র হয়ে বিনা চিকিৎসায় ইতিমধ্যে মারা গেছেন। বর্তমানে তার পরিবার চরম অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আরেক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক হাওলাদার চর শাহজালালে অন্যের জমি বর্গা চাষ করে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান (বীরপ্রতীক) জানান, দশমিনার মুক্তিযোদ্ধাদের জমি বন্দোবসে-র নামে ১০ ফুট পানির নিচে চর দিয়ে তাদের শুধু অবহেলা ও অপমানই করা হয় নাই অবজ্ঞা ও করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এ ব্যাপারে ৪ দলীয় জোটের শাসনামলের পাঁচ বছর ভূমি মন্ত্রনালয় ও মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন - নিবেদন ও বহু ধরনা দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি, তত্তাবধায়ক সরকারের দুই বছরেও এ সমস্যার কোন সুরাহা করা হয়নি। এব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব মোঃ সিরাজ মোলস্নার সাথে আলাপ করলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জেলা কমান্ডের পরবর্তী সভায় আলোচনা হবে বলে বাসসকে জানান। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজমল হোসেন বাসসকে জানান, দুঃস' মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বন্দোবসে-া দেয়া জমি পানির নিচে ঘটনাটি আমিও শুনেছি। মুক্তিযোদ্ধরা আমাদের গর্বিত সসত্মান। তাদের কাজে এধরনের অবহেলা ্এটা সত্যিই দঃখজনক। এব্যাপারে আরো আগেই ব্যাবস'া নেয়া হতো কিন' উপজেলা খাসজমি বন্দ্বোসত পুর্নাঙ্গ কমিটিই ছিল না । সমপ্রতি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির প্রথম সভায় এই বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় বিসতারিত আলোচনা শেষে এই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে অন্য জায়গায় খাস জমি বন্দোবাসত দেওয়ার প্রসতাব জেলা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে তিনি বাসসকে জানান।
|