সরওয়ার আজম মানিক (কক্সবাজার) : কক্সবাজার শহরতলীর বাস টার্মিনাল এলাকায় কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার নবনির্মিত একটি ভবনসহ দু’টি সেমিপাকা ভবন আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে কয়েক হাজার বিড়্গুব্ধ জনতা। কবরস'ানের জমি দখল করে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের অভিযোগে এলাকাবাসী বুধবার দুপুরে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল। ওই মানববন্ধন থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। হামলাকারীরা মাদ্রাসা জুড়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। দমকল বাহিনীর গাড়ি আগুন নেভাতে গেলেও জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা স'ায়ী ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক পুলিশ, বিড়্গুদ্ধ জনতা ও মাদ্রাসা ছাত্রী আহত হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অনত্মত ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে। সংঘর্ষ চলাকালে বিড়্গুদ্ধ জনতা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচলকারী ৮/১০টি গাড়িও ভাংচুর করে। কক্সবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস জানান, মাদ্রাসার এই ঘটনায় কতো আহত হয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে এখানে পুলিশই বেশি আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা সাংবাদিকদের জানান, মাদ্রাসা ও কবরস'ান দু’টিই ধর্মীয় অনুভূতিশীল বিষয়। তাই পুলিশকে ঠাণ্ডা মাথায় পরিসি'তি মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার বিড়্গুব্ধ জনতাকে সামাল দিতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে।’ কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আহমদ হোছাইন বলেন, ‘আগে থেকেই মাদ্রাসার জমি নিয়ে স'ানীয় লোকজনের সাথে বিরোধ ছিল।’ তিনি এবারের ঘটনার জন্য সাত্তার ও জাহাঙ্গীর নামের দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন। কবরস'ান দখল করে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের বিষয়টি একেবারেই অবানত্মর বলে তিনি দাবি করেন।