| এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : সখিপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে ৫০টি অবৈধ করাত কল গড়ে ওঠেছে। ওইসব করাত কলে দিনরাত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ চেরাই করে পাচার করা হচ্ছে। আওয়ামীলীগের নেতা কমী সমর্থকরা নামে বেনামে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা করাত কল গুলো চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই সব করাত কল গুলো বন্ধ থাকলেও আ.লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাতিরাতি ওই সব করাত কল গুলো গড়ে ওঠে। বন বিভাগের স'ানীয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিয়মিত মাসোহারাও পাচ্ছেন ওই সব করাত কল গুলো থেকে এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রতিমাসে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাঠ উজার হচ্ছে। জানা যায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগের বহেড়াতৈল , হতেয়া ও বাশতৈল রেঞ্জের আওতায় সখীপুর উপজেলায় ১১টি বিটে ৪২ টি অবৈধ করাত কল রয়েছে। এছাড়া পৌরসভায়ও ২৭টি বৈধ করাত কল ছাড়াও নয়টি অবৈধ করাত কল গড়ে ওঠেছে। বহেড়াতৈল রেঞ্জের বহেড়াতৈল সদর, এমএমচালা, ডিবি গজারিয়া, কচুয়া, পাঁচটি বিটের আওতায় নাকশালায় তিনটি, দাড়িয়াপুরে একটি, বেতুয়ায় তিনটি, ডাবাইলে দুইটি, গোহাইল বাড়িতে একটি, আইলসার বাজারে দুইটি, এ্যাঙ্গার চালায় দুইটি, রামখা পাড়ায় একটি, বড়চওনায় দুইটি, কুতুব পুরে দুইটি, দেবরাজে একটি , আড়াইপাড়ায় একটি, মরিচায় তিনটি,হামিদপুরে দুইটি, বড়চালা ও দীঘিরচালায় দুইটি, ঘড়বাড়িতে দুইটি, মহানন্দপুরে একটি, বাশারচালায় একটি অবৈধ করাত কল রয়েছে। জানা গেছে, দাড়িয়াপুরে স'াপিত অবৈধ করাত কলটি গজারিয়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের, নাকশালা বাজারে তিনটি করাত কল স'ানীয় আওয়ামীলীগ কর্মী আবদুল আজিজ, শহিদুল ইসলাম মাস্টার ও লুৎফর রহমানের, ডাবাইলের করাত কলটির সাবেক বনমন্ত্রী শাজাহান সিরাজের ভাতিজা ফরিদের, কচুয়ার করাত কলটি স'ানীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত সিকদারের ভাগ্নে জামাল হোসেনের, কুতুবপুরের একটি করাত কল কালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল কদ্দুস মাখনের , আইলসার বাজারে করাত কলটি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আরিফ হোসেনের বাবা আবদুল গফুরের, মহানন্দপুরের করাত কলটি উপজেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি অজিত কুমার বর্মণের , বাসার চালা করাত কলটি পৌরসভা ১নং ওয়ার্ড আ.লীগৈর সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের। অন্যান্য করাত কল গুলো স'ানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় চলছে বলে জানা গেছে। হতেয়া ও বাশঁতৈল রেঞ্জের কালিদাস ,কালমেঘা , কড়ইচালা , হতেয়া সদর , বাজাইল ও নলুয়া বিটের আওতায় কালিদাসে একটি , ইছাদিঘী একটি, বোয়ালী একটি, চতলবাইদ একটি, দেওদিঘী একটি ও হতেয়া বাজারে একটি অবৈধ করাত কল রয়েছে। হতেয়ার একটি করাত কল সখীপুর উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন ও স'ানীয় সংসদ সদস্য কৃষিবিদ শওকত মোমেনের ভাগ্নে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান শরীফ পান্নার ও বড়চওনার করাত কলটি আরেক ভাগ্নে গোলাম ফেরদৌস ও লুৎফর রহমানের , কালিদাসের করাত কলটি আওয়ামীলীগ কর্মী নাজমুল হোসেনের , নলুয়ার করাত কলটি আওয়ামীলীগ নেতা আজমত খানের। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চার কিলোমিটারের ভেতরে করাত কল স'াপনের বিধান না থাকলেও সখীপুরের বিভিন্ন স'ানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যেই করাত কলগুলো গড়ে ওঠেছে। অধিকাংশ করাত কল গুলোর দূরত্ব সংশিষ্ট বিট কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কয়েকশ গজ দূরে। উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি কাকড়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাজাহান সাজু বলেন , বন বিভাগের সঙ্গে আতাত করে আ.লীগের নেতাকর্মীরা করাত কলগুলো স'াপন করে বন উজার করছে। গড়গোবিন্দপুর গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী হুরমুজ আলী ও নলুয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়মিত টাকা দিয়ে করাত কল গুলো চালাচ্ছেন । জানা যায়, করাত কল গুলোতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শাল গজারি, আকাশ মনি, ইউক্লেপটাস, সেগুন সহ মূল্যবান কাঠ চেরাই করা হয়। কাঠ ব্যাবসার সঙ্গে সংশিষ্ট সূত্রের হিসেব মতে , প্রতিমাসে ৫০টি অবৈধ করাত কলে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাঠ চেরাই করে দেশের বিভিন্ন স'ানে পাচার করা হয়ে থাকে। সখীপুর উপজেলা বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান অবৈধ করাত কল গুলো স'াপনের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে পৌর এলাকার বাইরে করাত কল স'াপনের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান । তাহলে করাত কলগুলো কী ভাবে চলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অভিযোগ পেলে করাত কল গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস'া নেওয়া হবে। করাত কল গুলো থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর আহম্মদ আলী বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই কয়েকটি করাত কল উচ্ছেদ করেছি ও মামলা করেছি। তবে অনেক গুলোর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস'া নেওয়া যাচ্ছে না । অবৈধ করাত কল মালিক কালিয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আবদুল কদ্দুস মাখন বলেন, করাত কলটির মালিক আমি নই , সেটা বিএনপি নেতা আসলাম ভূইয়ার বলে দাবি করেন। গজারিয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, নাকশালা বাজারে গড়ে ওঠা করাত কলটি আমার নয় আমার বড় ভাই ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাপ হোসেনের। সখীপুর পৌরসভায় বৈধ করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি সখীপুর থানা আ.লীগের সদস্য জিন্নত আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক বলেন, অবৈধ করাত কল গুলো উচ্ছেদের জন্য বারবার বন বিভাগকে ব্যবস'া নিতে বলা হলেও তারা কোন ব্যবস'া নিচ্ছেন না ফলে আমরা বৈধ করাত কল মালিকরা ক্ষতিগ্রস- হচ্ছি। সখীপুর থানা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদার বলেন, দলীয় নেতা কর্মীরা অবৈধ করাত কলের মালিক কি না তা আমি জানি না । এরকম হয়ে থাকলে তদন- পূর্বক দলীয় ভাবে ব্যবস'া নেয়া হবে। করাত কল গুলো স'াপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কী না জানতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক( এসিএফ) দক্ষিণ জিএম কবির বলেন, করাত কলগুলো স'াপনের জন্যে কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে তিনি সখীপুরে অসংখ্য অবৈধ করাত কল রয়েছে স্বীকার করে বলেন, শিগগিরই টাস্কফোর্স গঠন করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ করাত কল গুলো উচ্ছেদ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।
|