| জাহেদা ইয়াসমিন মিলি (জামালপুর) : প্রতিদিন তিনি মৃত্যুর প্রস-তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তার স্ত্রীর কাছ থেকেও শেষ বিদায় নেন। শোবার আগে অজু করেন। পাক পবিত্র হয়ে যেন মরতে পারেন। দোয়া কালাম পড়তেও বাকি রাখেন না। হার্ডের রোগী বলেই তার এমন অবস'া। ৯৬ সালে ডাক্তার বলে ছিল ; আপনি ৩ মাস বাচঁবেন।মনে যা যা খেতে চায় ; খাবেন। পরবেন। ঘুরবেন। তারপর থেকেই এই নিয়মিত রুটিন। কিন' না! এখনো যিনি জীবিত। তাঁর নাম মোঃ ছামিউল হক। জামালপুর জেলার চরপলিশা গ্রামে তার বাড়ি। পিতার নাম মোঃ তোজাম্মেল হক সরকার। মাতা শাহারা খাতুন। পেশা বলতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে যাওয়ার স্বপ্ন। আর এ স্বপ্নকে বাস-বে রূপ দিতে গিয়ে এখন সে ফতুর। শোনাযাক তার সেই ফতুর কাহিনী। পিতা তোজাম্মেল হক সরকার । যখন বন বিভাগে চাকুরী করতেন। তখন থাকতেন চট্রগ্রাম পার্বত্য এলাকায়। পার্বত্য এলাকার শিলছড়ি প্রাইমারী শেষ করে শিশক মুখ হাইস্কুলে পড়াশোনাকালে দেখতেন বাঙ্গালী-পাহাড়ি ও উপজাতিদের শিক্ষা গ্রহণের কষ্টকর চিত্র। তখন থেকেই তার স্বপ্ন ; তার গ্রামের মানুষ অশিক্ষিত বেশী। এদের সু-শিক্ষিত করে তুলতে একটি স্কুল করবেন। ১৯৯০ সালের জানুয়ারীতে তার নিজ জেলা জামালপুরের চরপলিশা নয়াপাড়ায় নিজের ঘরের চালা দিয়ে একটি স্কুলের আত্মপ্রকাশ করেন। পিতাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে নিয়মানুযায়ী ৫২শতাংশ জমি লেখে দেন। দাতা হিসেবে স্কুলের নাম দেয়া হয় শাহারা তোজাম্মেল হক প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছাত্র-ছাত্রীদের যথারীতি পাঠ দেয়া চলে। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও চোখে পড়ার মত। বৃত্তি প্রাপ্ত সংখ্যাও ভাল। সরকারী তদারকিও চলছে। রেজিঃ হবে। এর মধ্যেই গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে একটি প্রজ্ঞাপণ জারী হয়। প্রজ্ঞাপণটি এরূপ কারোর নামীয় প্রাইমারী স্কুলের ৩ লাখ, হাইস্কুলের ৭ লাখ ও কলেজের ক্ষেত্রে ১২ লাখ টাকা নগদ ডোনেশন দিতে হবে। টাকা দেয়ার মত কোন উপায় নাই। তাই তার মাতা-পিতার নামে শাহারা-তোজাম্মেল হক কথাটি বাদ দিয়ে চরপলিশা নয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় নাম ঠিক রাখা হয়। তদন- হলো। যাচাই বাছাইয়ের পর ২০০৬ সালে পাঠদান অনুমোতি , ২০০৮সালে অস'ায়ী রেজিস্ট্রেশন হয়। ইতোমধ্যেই স্কুলটি ১৬ বার ঝড়ে বিধ্বস- হয়। নিজের অর্থেই ঘর-দরজা আসবাব পত্র করে স্কুল দাড় করান তিনি। এভাবে এখন তিনি নিঃস্ব প্রায়।এনিয়ে এলাকাবাসী তাকে নানা ভাবে নানা কথা বলে। উপহাস করে। কেননা স্কুল করতে গিয়ে নিজের সহায়-সম্বল শেষ। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরকারীভাবে দু’টাকার বেতন হয় নাই। খেয়ে নাখেয়ে কিভাবে একটা স্কুল চলবে ? এ চিন-ায় তিনি ব্যাকুল। গত বছর ঝড়ে স্কুলটি বিধ্বস- হয়। ফলে খোলা আকাশের নিচে এখন পাঠ দান করা হচ্ছে। যা না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন। স'ানীয় এমপি,শিক্ষা অধিদপ্তরসহ অনেকের কাছেই ধর্না দিয়েছি। কোন কাজ হয়নি। বর্তমানে স্কুলের নিয়ম-নীতি, পাঠদান,ছাত্র-ছাত্রী সবই ঠিক আছে। অথচ স্কুলটির ভবন হচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষিকারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেনা। অথচ আমারও পরে অনেকের গড়া প্রতিষ্ঠান বেতন পাচ্ছে। ভবনও হচ্ছে। শুধু বাকি শিক্ষকদের পিটিআইয়ের। এই পিটিআইয়ের সুযোগ দেবে কর্তৃপক্ষ।কিন- এই সুযোগই হচ্ছেনা।এ ব্যাপারে ছামিউল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা উলেখ করে বলেন, ফুয়েল ছাড়া ফাইল নাড়াতে না পারার কারণেই এ প্রতিষ্ঠানের দুরাবস'া বৈকি। অত্র স্কুলের ছাত্র সেনা বাহিনীর ক্যাপটেন জিয়াউল হক সজিবের মত অনেক শিক্ষার্থীরাই এখন শিক্ষক, সেনা,নৌ, বিমান,পুলিশ বিডিআর, ডাক্তার নার্সসহ বিভিন্ন পেশায নিয়োজিত থেকে দেশের সেবা দিচ্ছে। জেনে আমার মন ভরছে। তার সর্ব শেষ কথা হচ্ছে ;তিনি জীবিত থাকাবস'ায় স্কুলের ভবন ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন হবে কিনা? এ চিন-ায় তার মন ভাল না। কেননা বহুল আলোচিত প্রাইমারী একটি স্কুলের ভবন নির্মাণ না হওয়ায় গাছতলায় চলছে পাঠদান।
|