রাজশাহী সংবাদদাতা : বিদ্যুতের আসা-যাওয়া, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট, চৈত্রের তাপদাহ আর মশার কামড়ে অতিষ্ঠ রাজশাহীবাসী। বিশেষ করে এইচএসসি পরীড়্গার্থীরা রয়েছে দারম্নণ বিপাকে। গরমে নেয়েঘেমে মোমের আলোয় প্রস'তি নিতে হচ্ছে তাদের। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে এরই মধ্যে রাজপথে মিছিল-সমাবেশ করেছে রাজশাহীর বিভিন্নসত্মরের মানুষ। কিন' অবস'ার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিপর্যসত্ম হয়ে পড়েছে তাদের দৈনন্দিন জীবন। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। স'ানীয় কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হচ্ছে না এ ঘাটতি। ফলে প্রতিদিন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে নাকাল হতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষদের। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬শ’ মেগাওয়াট। কিন' চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষকে লোডশেডিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত সাবস্টেশন থাকার কারণে এসব অঞ্চলের মানুষকে লো-ভোল্টেজেরও শিকার হতে হয়। রাজশাহীর কাঁটাখালিতে স'াপিত একমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি একযুগ আগে বন্ধ হওয়ার পর এই অঞ্চলে আর কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজশাহী মহানগরবাসীর দুর্ভোগ আরো বেশি। তারা চাহিদার একচতুর্থাংশ বিদ্যুৎও অনেক সময় পায় না। এখানে চাহিদা ৩৫-৪০ মেগাওয়াট। সূত্র মতে, ইরিগেশনের জন্য এখান থেকে ২০-২৫ মেগাওয়াট নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামাঞ্চলে। ফলে নগরীর অধিকাংশ এলাকায়ই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে নগরবাসী। ফ্রিজের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফ্যানসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাতে প্রচ- গরমে ঘুমোতে পারছে না মানুষ। নগরবাসীর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ড়্গোভ রয়েছে। একদিকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না থাকা অন্যদিকে চৈত্রের তাপদাহ, এ দুয়ে মিলে বিপর্যসত্ম করে তুলেছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে। প্রখর রোদের সঙ্গে গরম বাতাসে অল্পতেই হাপিয়ে উঠছে মানুষ। পাল্টে গেছে রাজপথ, বিপণি বিতানসহ নগর জীবনের পুরো চিত্র। বাধ্য না হলে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। খেটে খাওয়া মুটে-মজুর, ঠেলাগাড়িওয়ালা, রিকশাওয়ালা, নির্মাণ শ্রমিক পেটের তাগিদে পথে নেমে অবসন্ন হয়ে পড়ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাসত্মায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের একানত্ম অনুরোধেও সাড়া মিলছে না রিকশাওয়ালাদের। এদিকে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে পানি সরবরাহও অপ্রতুল। সিটি করপোরেশন বলছে, নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ না থাকার ফলে পাম্পগুলো সচল রাখা যাচ্ছে না। এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) মশক নিধন ওষুধ নিয়ে মস্করা শুরম্ন করেছে। ক্র্যাশ প্রোগাম নেয়া হলেও মশার কামড়ে রীতিমতো অতিষ্ঠ নগরবাসী। কয়েলে কোনো কাজ হচ্ছে না। সমপ্রতি পুলিশ নগরীর মেহেরচ-ী এলাকা থেকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের চার ব্যারেল মশার ওষুধ উদ্ধার করে। আটককৃত ওই ওষুধগুলোতে ভেজাল মেশানোর জন্য চ-ীপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় রাসিকের ২ কর্মচারী শামসুল আলম ও তার সহযোগী পলাশকে আটক করে পুলিশ। জানা গেছে, বারবার ওষুধে ভেজাল মিশিয়ে নামমাত্র সেপ্র হতো সিটি করপোরেশন এলাকায়। ফলে মশা নিধন হতো না। এমন অনেক অভিযোগের পরও রহস্যজনক কারণে সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা বহালতবিয়তে আছেন। গত ২৯ মার্চ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ মশার উপদ্রপ থেকে নগরবাসীকে রড়্গার দাবি নিয়ে রাজশাহী মহনগরীতে বিড়্গোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী রড়্গা সংগ্রাম পরিষদ। নগরীর মিয়াপাড়াস' সাধারণ গ্রন'াগার থেকে বিড়্গোভ মিছিল বের করে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের দাবি জানানো হয়। অবিলম্বে নগরীতে মশক নিধন কার্যক্রম শুরম্ন করার জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপড়্গের কাছে জানানো হয়। রাজশাহী রড়্গা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জামাত খানের সভাপতিত্বে বক্তারা সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রম্নজ্জামান লিটনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নগরীতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ পরিসি'তি অত্যনত্ম নাজুক অবস'ায় পৌঁছেছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে মশার উৎপাতে নগরবাসীর জীবনযাত্রা শোচনীয়। বক্তারা আরো বলেন, এইচএসসি পরীড়্গা শুরম্ন হচ্ছে। অথচ বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ার কারণে শিড়্গার্থীরা ঠিকমত প্রস'তি নিতে পারছে না। নগরীতে পানি সরবরাহ পরিসি'তি আরো উদ্বেগজনক। সিটি করপোরেশনের সরবরাহকৃত পানি ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তাও নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। রাসিকের সরবরাহকৃত পানি পানে অনেকে জ-িসসহ পানিবাহিত নানা রোগে ভুগছে। নলকূপগুলোতেও চাহিদামতো পানি উঠছে না। |