| সরওয়ার আজম মানিক (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের সাগর ঘেরা বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপের নাম কুতুবদিয়া। দ্বীপকন্যা কুতুবদিয়ার আয়তন প্রায় ৩০ কিমি দৈর্ঘ্য। ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে দ্বীপকন্যা কুতুবদিয়া উপজেলা গঠিত। দ্বীপটি প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদে ভরপুর। এখানে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার লবণ উদপাদিত হয়ে আসছে। দ্বীপটির চারদিকের সাগরে বিশাল মৎস্য ভা-ারসহ ভূগর্ভে রয়েছে অমূল্য সম্পদ তেল, গ্যাস ও রাসায়নিক দ্রব্যাদিসহ কোটি কোটি ডলারের খনিজসম্পদ। কুতুবদিয়া-পেকুয়ার লবণাক্ত মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব খনিজসম্পদ উত্তোলনের জন্য স্বাধীনতার ৩৮ বছরেও কোনো সরকার উদ্যোগ নেয়নি বলে জানান,কুতুবদিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আ,স,ম, শাহরিয়ার চৌধুরী। ফলে সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিগত সরকারগুলো তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য বেশ কয়েকবার জরিপ কাজ চালালেও তা উত্তোলন বা ব্যবহারের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সম্প্রতি বর্তমান মহাজোট সরকার বিদেশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানকারী সংস'া কেয়ার্ন এনার্জি (বিজিপি) নামে এক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ফলে পেকুয়া-কুতুবদিয়ার গভীর ও অগভীর সাগরের তলদেশে রড়্গিত খনিজসম্পদ উত্তোলনের জন্য গ্যাসকূপ খনন কার্যক্রম শুরু করেছে। গত নভেম্বরে এ কোম্পানি কুতুবদিয়ার সাত ইউনিয়নসহ পেকুয়া উপকূলীয় ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে সংশিস্নষ্ট উপকূল এলাকায় এবং গভীর সাগরের তলদেশ হতে খনিজসম্পদ উত্তোলনের জন্য গ্যাসকূপ খনন কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানান, স'ানীয় সায়বাদিক লিটন কুতুবী। এতে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনাকারী দলের ভূতাত্ত্বিক খনিজ সম্পদবিষয়ক বৈজ্ঞানিকরা এ মর্মে নিশ্চিত হয়েছেন যে, পেকুয়া-কুতুবদিয়ার সাগরে প্রাপ্ত খনিজসম্পদগুলো খুবই উন্নতমানের। এটাই হতে পারে দেশের বৃহত্তম তেল-গ্যাস ক্ষেত্র। জরিপ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩ বিদেশি ভূসম্পদ বিজ্ঞানী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, পেকুয়া-কুতুবদিয়ার তেল-গ্যাস ড়্গেত্রই হবে দড়্গিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম খনিজসম্পদ এলাকা। তিন বিজ্ঞানী বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার পঁহরচাদার মাদ্রাসাগেটে এক খ- জমিতে অস'ায়ী আবাসস'ল গড়ে তুলেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ৫-৬টি গাড়িযোগে স্পিড বোটে সাগরের তেল, গ্যাস উত্তোলনের কাজে কর্মব্যসত্ম দিন কাটাচ্ছে।
|