স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস'ায় সহযোগিতার জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। স'ানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীবাসীর পানির দুর্ভোগ মেটাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাচ্ছেন বলেই সেনাবাহিনী নামানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছরের মার্চ মাস থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন- ৫০টি গভীর নলকূপ স'াপন ও প্রতিস'াপনের কাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ১৪ কোটি লিটার পানির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আরো ২২টি গভীর নলকূপ স'াপনের কাজ চলছে। এগুলো বসানো সম্পন্ন হলে রাজধানীবাসীর পানির সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে বলে জানান তিনি। তবে রাজধানীর পানির সংকটের পেছনে বিদ্যুতের সমস্যা অন্যতম উলেস্নখ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, নতুন পাম্প বসানোর জন্য তারা জায়গা পাচ্ছেন না। গাড়ির সমস্যাও অপ্রতুল। তাই পানি সরবরাহ কাজে সমস্যা হচ্ছে। পানি সমস্যার কারণে ঢাকার জনমনে ড়্গোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় তারা আরো বলেন, ঢাকার অনেক স'ানে পানির লাইনগুলো এতোই পুরোনো হয়ে গেছে যে, পাইপগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। পানির লাইনের সঙ্গে সুয়্যারেজ লাইনের সংযোগ হয়ে গেছে। এতে ঢাকার অনেক জায়গার পানিতে দুর্গন্ধ ও ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গত বুধবার সচিবালয়ে স'ানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কড়্গে ঢাকা ওয়াসাভুক্ত এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস'া সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে স'ানীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে পর্যালোচনা সভা শেষে এ কথা বলেন স'ানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। পর্যালোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন এবং ঢাকার সংসদ সদস্যরা উপসি'ত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, ডিসিসি, রাজউক, গৃহায়ন কর্তৃপড়্গ এবং সড়ক ও জনপথসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে পানির সমস্যা সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, চাহিদার ১০০% পানি সরবরাহ করা আমাদের পড়্গে সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরের ২১ মার্চ এ সংক্রান- একটি সভা হয়েছিল। সে সভায় ঢাকার পানি সমস্যা সমাধানে কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। সে প্রকল্পগুলো বাস-বায়নও হয়েছে। এতে ১২ কোটি লিটার পানি উত্তোলন বেড়েছে। কিন' তবুও পানির সমস্যা। পানির অভাব। পানির এ সমস্যার কারণ হলো চাহিদা বৃদ্ধি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস'া নিতে পারে। গ্যাস না থাকলেও মানুষ বিকল্প ব্যবস'ায় রান্নার কাজ করতে পারে। কিন' পানির কোনো বিকল্প নেই। পাম্প বসানোর জন্য নিজ এলাকাতেও জায়গা পাচ্ছেন না বলে জানান। তিনি পুরোনো পানির লাইন পরিবর্তন করে নতুন লাইন স'াপনের অনুরোধ জানান। তেজগাঁও-রমনা এলাকা থেকে নির্বাচিত এমপি আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, বিগত ৫০ বছরের মধ্যে আমার বাড়িতে পানির অভাব দেখিনি। কিন' গত ৩ দিন ধরে পানি নেই। অপর এক সংসদ সদস্য জানান, গত বছরের ২১ মার্চের আগে ঢাকায় পানির পাম্প ছিল ৫৭৫টি। আরো ৫০টি পাম্প বসানো হয়েছে। বর্তমানে পানির পাম্পের সংখ্যা ৬২৫টি। এর মধ্যে ৮০টি পাম্পে ডুয়েল কানেকশন ব্যবস'া রয়েছে। বাকি পাম্পেও ডুয়েল কানেকশনের ব্যবস'া করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান জেনারেটরের সংখ্যা ২৫০টি। সব পাম্পে জেনারেটর সরবরাহেরও আহ্বান জানান তিনি। |