স্টাফ রিপোর্টার : একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ চিহ্নিত করতে গঠিত তদনত্ম সংস'া তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রেখেছে। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ওই সংস'াকে তথ্য-উপাত্ত দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছে। এ বিষয়ে তদনত্ম সংস'ার সঙ্গে তারা ৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে। এদিকে ট্রাই-ব্যুনালের আইনজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার বিশেষ গুরম্নত্ব দিচ্ছে। আইন-জীবীদের জন্য নিরাপদ বাসভবন খোঁজা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে বুধবার পুরনো হাইকোর্ট ভবনে স'াপিত তদনত্ম সংস'ার কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তদনত্ম সংস'া ছাড়াও আইনজীবী প্যানেল এবং ট্রাব্যুনালের কাছেও একই চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তদনত্ম সংস'াকে তাদের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রম্নতি দেয়। অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সংস'াকে তথ্য-উপাত্ত পাঠানোর জন্য তদনত্ম সংস'ার পড়্গ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির চিঠি পাওয়ার পর তদনত্ম সংস'ার প্রধান আবদুল মতীন সাংবাদিকদের বলেন, ওই কমিটি ১৯৭১ সালের বিভিন্ন অপরাধ সংক্রানত্ম তথ্য-উপাত্ত, দলিল, অপরাধীর তালিকা এবং এ সংক্রানত্ম বিভিন্ন গ্রন' তদনত্ম সংস'ার কাছে দেয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ওই কমিটির সাহায্য নেয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধানত্ম নেবো। ৪ এপ্রিল তারা আমাদের কাছে তথ্য-উপাত্ত দিতে আসবে বলে চিঠিতে উলেস্নখ করেছে। তদনত্ম সংস'ার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মতীন বলেন, তদনত্ম কাজের অগ্রগতি হচ্ছে। তদনত্ম তাড়াতাড়ি করতে হবে এটা ঠিক, তবে তাড়াহুড়া করে নয়। তিনি বলেন, আপাতত কিছু বই সংগ্রহ করে সেগুলো পড়া হচ্ছে। এগুলোর পর্যালোচনা করা হবে। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে তা কাজে লাগানো হবে। তদনত্ম সংস'াকে দেয়া চিঠির বিষয়ে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এম এ হাসান বলেন, সরকার যে তদনত্ম কমিটি করেছে তারা আমাদের কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ এখনো চায়নি। অথচ যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রকাশ থেকে শুরম্ন করে এ সংক্রানত্ম বহু তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তিনি বলেন, এ তথ্য-প্রমাণের অভাবে সরকার যদি আদালতে হেরে যায়, অপরাধীদের বিচার না করতে পারে- তাহলে সেটা হবে পুরো জাতির পরাজয়। এই বোধ থেকে নিজের উদ্যোগে তদনত্ম সংস'াকে তথ্য-প্রমাণ দিতে চিঠি দিয়েছি। এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীদের জন্য নিরাপদ বাসভবন ঠিক করা হচ্ছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আইনজীবীদের নিরাপদ বাসভবনে রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ট্রাইব্যুনালের প্রধান আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপু মিন্টু রোডের বাসভবনে উঠেছেন। অন্য আইনজীবীরাও মিন্টু রোডে উঠবেন কি না তা এখনই জানা যাচ্ছে না। তবে যেখানেই উঠবেন সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস'া থাকবে। দু-একদিনের মধ্যেই তাদের বাসভবন ঠিক করা হবে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, মন্ত্রীপাড়া হওয়ায় মিন্টু রোডে এমনিতেই অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস'া রয়েছে। তাই অন্য আইনজীবীরাও মিন্টু রোডের বাসভবনে থাকতে আগ্রহী। আইনজীবী প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন- সৈয়দ রেজাউর রহমান, গোলাম হাসনাইন, রানা দাসগুপ্ত, জহিরম্নল হক, সৈয়দ হায়দার আলী, খন্দকার আবদুল মান্নান, মোশাররফ হোসাইন কাজল, জিয়াদ আল-মামুন ও সুলতান মাহমুদ সুমন। এসব আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার বাসা বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ানত্ম করবে বলে জানা গেছে। |