বিএনপি’র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, মার্চ মাস স্বাধীনতার মাস। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ মাসেই চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের লাল দীঘি ময়দানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় মহা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উক্ত কথাগুলো বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন আমরা আজকের এই মহা সমাবেশ আউটার ষ্টেডিয়ামে করতে চেয়েছি। কিন' সরকার করতে দেয়নি। এমনকি সরকার কৌশলে চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি সড়কে অবৈধ ধর্মঘটের নামে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। যাহাতে আমাদের দলে নেতাকর্মীরা মহা সমাবেশে পৌছাতে না পারে। তিনি বলেন সরকার বলতে চায়, শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। কিন' চট্টগ্রাম বাসী জানে শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন কিনা? মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, দেশ নিয়ে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে যা স্বাধীনতার জন্য হুমিক স্বরূপ। এদেশকে রক্ষা করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানান তিনি। বেগম জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটালের নামে দেশের মানুষকে ভিভ্রানি- করতেছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে শুরু হলো এ সরকারে বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন, চট্টগ্রামের মানুষ অন্যায় দেখলে সাগরের ঢেউয়ের মত উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তিনি চট্টগ্রাম বাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দলনের সাথে একত্রিত হয়ে আন্দলন করার আহ্বান জানান। সাবেক প্রধান মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দেশের উন্নয়নে সব সময় কাজ করে গেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের দেখার মত সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিদেশীদের সাহায্য দরকার হবে না। তাই আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্যারা ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। আর আওয়ামী লীগের ট্রামকার্ড ছিল বিদেশীদের হাত করে বিএনপিকে ক্ষমতা আসতে না দেয়। ১১ই জানুয়ারী ফখরুদ্দিন ও মঈন ইউ আহমেদের নেতৃত্বে যে তত্ববধায়ক সরকার গঠন হয়েছিল। তা আইনত অবৈধ সে আমলে বিএনপি সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের কে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, তত্বাবধায়ক সরকারের আবদার ছিল আমি যাহাতে আমার সন-ানদের নিয়ে এদেশ ছেড়ে চলে যাই। যদি তা করি তাহলে আমার কোন মিথ্যা মামলা দায়ের করা হবে না। আর যদি না যাই তাহলে জেলে যেতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারেক রহমানকে জোর পূর্বক ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে বিমানে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছিল তত্ববধায়ক সরকার। তিনি বলেন আমি এদেশ ছেড়ে যাইনি বলে জেলে যেতে হয়েছে। তরুণদের উদ্দেশ্যে বিএনপি’র নেত্রী বলেন, আপনারা দেখেন নাই আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকান্ড কি? স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশ থেকে যে সাহায্য এসেছে তা যুদ্ধ বিদ্ধস- মানুষদেরকে না দিয়ে তৎকালিন আওয়ামী নেতারা লুট করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বর্তমানে দেশে টেন্ডারবাজী, দোকান দখল, চাঁদাবাজী, স্কুল দখল, এমনকি ধর্মীয় জায়গা গুলো দখল করে যাচ্ছে। কিন' আওয়ামী লীগ ছাত্র লীগকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার সন্ত্রাস বেড়েছে। তাদের আমলে লাল বাহিনী, নীল বাহিনী, গঠন করে দেশের মানুষরে উপর নির্যাতন চালিয়েছে। তারা প্রশাসনের ভালো ভালো অফিসারকে ওএসডি করে প্রশাসনকে অচল করে রেখেছে। আওয়ামী লীগ চট্টগ্রামে কর্ণফুলী সেতু নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের এদলটি বিএনপি’র বিরুদ্ধে জনগণকে মিথ্যা প্রচরণা করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার সময় চালের দাম ১৬ টাকা ছিল বর্তমানে ৩৫ টাকা। বিএনপি নেত্রী বলেন, ফখরুদ্দিন-মঈন ইউ আহমেদ ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এনেছে। ভোট কারচুপির অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, আমরা সামরিক সরকারকে বিদায় করার জন্য নির্বাচন অংশ গ্রহণ করেছি। সাবেক প্রধান মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ক্ষমতায় এসে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে যে, আমরা ক্ষমতা থাকাকালিন বিদ্যুৎখাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছি যা মোটেও সঠিক নয়। তিনি বলেন, দেশের জনগণ গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত, এগুলো যথাযথ ভাবে সরবরাহ করার জন্য সরকারকে ব্যবস'া নিতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত মহা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র স'ায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোঃ নাছির উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুলাহ আল নোমান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমান উলাহ আমান, বরকত উলাহ বুলু, মোঃ শাহজাহান, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, চট্টগ্রাম নগর বিএনপি নেতা এরশাদুলাহ, শামসুল আলম, মহা সমাবেশে আরও উপসি'ত ছিলেন, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপি নেত্রী সেলিনা রহমান, রাবেয়া চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, হারুনুর রশিদ প্রমূখ। |