স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা শহরের চারদিকে বিভিন্ন নদীর ওপর নির্মিত ১৫টি সেতুর মধ্যে ১৩টি সেতু নির্দিষ্ট উচ্চতা অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজধানীর চারপাশ দিয়ে ওয়াটার সার্কুলার রোড (নৌপথে চলাচল) চালু করার লড়্গ্যে এ নির্দেশ দেয়া হয়। এর ফলে ঢাকার চারপাশে নৌ চলাচলের ব্যবস'া উন্নত হবে। যে ১৩টি সেতু ভেঙে ফেলা হবে সেগুলোকে সঠিক উচ্চতায় পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপড়্গ ব্যবস'া নেবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যে কোনো নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য অভ্যন-রীণ নৌ চলাচল কর্তৃপড়্গের অনুমতি নিতে হবে। গত বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকড়্গে অনুষ্ঠিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর নাব্য এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখার লড়্গ্যে প্রয়োজনীয় পদড়্গেপ গ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান, সুপারিশ প্রণয়ন ও বাস-বায়নের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের ষষ্ঠ সভায় এ সিদ্ধান- নেয়া হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, ভূমিমন্ত্রী মোঃ রেজাউল করিম হীরা, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলামসহ সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপসি'ত ছিলেন। সভার সিদ্ধান- মতে রাজধানীর আশপাশের যেসব সেতু ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- তুরাগ নদীর ওপর বিদ্যমান মিরপুর-গাবতলী বেইলি সেতু, আশুলিয়া সেতু (আব্দুলস্নাহপুর-ইপিজেড রাস-ার ওপর), টঙ্গী খালের ওপর নির্মাণাধীন ধউর-২ সেতু, প্রত্যাশা/নইনীচালা বেইলি সেতু, কামারপাড়া সেতু, টঙ্গী রোড সেতু (পশ্চিম পার্শ্ব), টঙ্গী রোড সেতু (পূর্ব পার্শ্ব), টঙ্গী রেল সেতু-১ (পশ্চিম), টঙ্গী রেল সেতু-২ (পূর্ব), বালু নদীর ওপর নির্মাণাধীন ত্রিমুখ রূপগঞ্জ সেতু, ইছাপুর বেইলি সেতু, কায়েতপাড়া সেতু ও ডেমরা সেতু। উলেস্নখ্য, এসব সেতু নির্মাণের সময় নিয়মানুযায়ী পানি থেকে সেতুর ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স ৭ দশমিক ৬২ মিটার এবং হরিজন্টাল ক্লিয়ারেন্স ৩০ দশমিক ৪৮ মিটার রাখার কথা ছিল। কিন' এসব সেতু নির্মাণের সময় ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স কিংবা হরিজন্টাল ক্লিয়ারেন্স মানা হয়নি বলে জানান শাজাহান খান। এ কারণে সেতুগুলো ভেঙে ফেলতে স'ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়ার ব্যাপারে বৈঠকে সিদ্ধান- হয়েছে। বৈঠকে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার হওয়া নদীর পার্শ্ববর্তী জমিতে সীমানা পিলার স'াপনের কাজ শুরুর সিদ্ধান-ও নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে সীমানা পিলার নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী। বৈঠকে সকল নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ঢাকার পার্শ্ববর্তী চার জেলার নদী থেকে বালু উত্তোলনের পুনঃঅনুমতি দেয়া হয়। এর ফলে নদী তীরে বাঁধ নির্মাণের জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে। |