 |
|
|
 |
|
|
| আবারো অশানত্ম হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
|
| রাজনৈতিক দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আধিপত্য বিসত্মারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রলীগ সমর্থিত কর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও তালা ঝুলিয়ে দেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্য বিসত্মার নিয়ে চলছে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মত ঘটনা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগ নামধারী কর্মীরা আধিপত্য বিসত্মারের চেষ্টায় সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। খবর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতাদের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা জানান, ভিসির পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে ব্যাপক বিড়্গোভ করেছে ছাত্রলীগ। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স'ানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবক’টি ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল কোন ক্লাস-পরীড়্গা অনুষ্ঠিত হয়নি। ভিসি প্রফেসর ড. এম বদিউল আলম পদত্যাগ না করা পর্যনত্ম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ। সর্বশেষ পরিসি'তি পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বিকালে সিন্ডিকেট সদস্য, হল প্রভোস্ট, পরিবেশ পরিষদ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের নিয়ে নিজ বাসভবনে বৈঠকে বসেন ভিসি প্রফেসর ড. এম বদিউল আলম। বৈঠক শেষে সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, ‘ছাত্রলীগের অবরোধ চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গের পূর্ব নির্ধারিত সকল কর্মসূচি স'গিত থাকবে।’ তবে ভিসির পদত্যাগের ব্যাপারে বৈঠকে কোন সিদ্ধানত্ম হয়নি বলে তিনি জানান। অন্যদিকে একটি বিশ্বসত্ম সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশ পেলে পদত্যাগ করবেন বলে ভিসি বৈঠকে উলেস্নখ করেন। বৈঠক শেষে পরিবেশ পরিষদ ছাত্রলীগকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানালে তারা বর্তমান প্রশাসনের সাথে কোন আলোচনায় বসবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরম্নল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা অবরোধ চালিয়ে যাবো। কোন ধরনের আলোচনায় অংশ নেবো না।’ প্রত্যড়্গদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ নম্বর গেইট, প্রশাসনিক ভবনসহ সবক’টি ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চট্টগ্রাম শহরে চলাচলকারী সকল বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ১ নম্বর গেইট থেকে বিড়্গোভ মিছিল নিয়ে মূল ফ্যাকাল্টিতে প্রবেশ করে। মিছিলে ভিসি প্রফেসর ড. এম বদিউল আলমের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের শেস্নাগান দেয়া হয়। মিছিলটি ফ্যাকাল্টিতে প্রবেশ করলে উত্তেজিত ছাত্রলীগ কর্মীরা চাকসু, বাণিজ্য অনুষদ, প্রক্টর অফিসসহ কয়েকটি ভবনে ভাংচুর চালায়। এ সময় বুদ্ধিজীবী চত্বর, প্রশাসনিক ভবন চত্বর, রেল স্টেশনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স'ানে গাড়ির টায়ার ও বাঁশে আগুন লাগিয়ে বিড়্গোভ প্রদর্শন করা হয়। বিড়্গোভ মিছিলটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসলে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জহুরম্নল ইসলাম তার কার্যালয়ে অবরম্নদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়। বিড়্গোভ চলাকালে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করে এবং দ্রম্নত ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যায়। পরে সিনিয়র নেতাদের হসত্মড়্গেপে পরিসি'তি নিয়ন্ত্রণে আসে। দুপুর ১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে পাহাড়িকা হাউজিং সোসাইটির ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে। সেখানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বক্তারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভিসির পদত্যাগ দাবি করেন। তারা বলেন, ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের সহাবস'ানের দাবি জানালেও প্রশাসন এখনও শিবিরের কথামতো কাজ করছে। শিবির বহিরাগত ক্যাডারদের ক্যাম্পাসে জড়ো করলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন ব্যবস'া নিচ্ছে না। সংগঠনের সহ-সভাপতি আবুল মনসুর জামশেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে এরশাদ হোসেন, আনিসুজ্জামান ইমন, জয়নাল আবেদীন, জহুর-উল-হক, মিজানুর রহমান, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিড়্গোভ চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমেনা বেগমের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ভিসির বাসভবনের সামনে অবস'ান নেয়। ছাত্রলীগের সেক্রেটারী এরশাদ হোসেন আন্দোলন প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা শানিত্মপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি। প্রশাসনের শিবির তোষণনীতির কারণে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।’ অপরদিকে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক জহুর-উল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি পদত্যাগ না করলে আরো কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে। সে সময় পরিসি'তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবে।’ তবে গতকাল বিড়্গোভের সময় ভাংচুরের কথা অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ও জবি সংবাদদাতা জানান, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিসত্মার ও ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রম্নপের মধ্যে ৩ দফা সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ২৫ জন আহত হয়েছে।
|
| | |